নাটোরে নানার বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত রাবি শিক্ষার্থী হিমেল

নাটোর প্রতিনিধি

0 128

অসুস্থ বিধবা মা আর স্বজনদের অশ্রুজলে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ট্রাক চাপায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র মাহমুদ হাবিব হিমেল।

বুধবার বাদ জোহর জানাজার নামাজ শেষে নাটোর গাড়িখানা কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এ সময় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা আর স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদে কেঁদেছে সেখানে আগত প্রতিটি মানুষ।

জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে হিমেলের মরদেহ নাটোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টি এলাকায় তার নানার বাড়িতে পৌঁছে।

হিমেলের দাদার বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে হলেও ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা মনিরা ইয়াসমিনকে নিয়ে হিমেল কাপুড়িয়াপট্টি এলাকায় নানা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনির উদ্দিন দারোগার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।

সেখান থেকেই নাটোর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। এরপর মেধাবী হিমেল ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে।

চারুকলায় ৪র্থ বর্ষে পড়া অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই গতকাল মঙ্গলবার ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রথম জানাজার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু ও প্রোভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ৫টি বাসে করে হিমেলের লাশসহ নাটোরে আসেন।

এরপর মরদেহ নেয়া হয় স্থানীয় একটি স্কুল প্রাঙ্গনে। এ সময় নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী নিহত হিমেলের মা ও নানার সাথে দেখা করে তাদের শান্তনা দেন। এ সময় হিমেলের মা মনিরা ইয়াসমিনের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন উপাচার্য। একই সাথে তিনি সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হিমেলের লাশ নাটোরে পৌঁছানোর পর তার নানার বাড়িতে যেন শোকের মাতম শুরু হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে হিমেলের মায়ের বুক ফাটা আহাজারিতে চারদিকের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

নাটোরে নানার বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত রাবি শিক্ষার্থী হিমেল

হিমেলের নানার বাড়ি নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর নাটোরেই স্কুল ও কলেজের লেখাপড়া শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন হিমেল।

এদিকে নাটোরে হিমেলের জানাযার সময় বাদ আছর নির্ধারণে করা হলেও পরে সময় পরিবর্তন করে জোহর নামাজের পর শহরের বাস টার্মিনাল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে তাকে কেন্দ্রীয় গাড়িখানা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.