মাসুদ রানা-খ্যাত লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন আর নেই

0 47

বাংলাদেশের স্পাই থ্রিলার জগতে জনপ্রিয়তম চরিত্র ‘মাসুদ রানা’র স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন আর নেই। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

কাজী আনোয়ার হোসেন একাধারে ছিলেন অনুবাদক, প্রকাশক, চিত্রনাট্যকার। গানও গেয়েছেন তিনি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে তার পরিচয় ছিল সেবা প্রকাশনীর প্রকাশক এবং এই প্রকাশনার সিরিজ মাসুদ রানার লেখক।

অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী আনোয়ার হোসেন দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার বোনদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সনজীদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন আগেই মারা যান। খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ফরিদার বোন। তাদের আরেক বোন সঙ্গীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন মারা গেছেন।

ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয় বলে জানান তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুরা।
গত বছরের অক্টোবরে প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়লে কয়েক দফায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন।

মায়মুরা বলেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন। শরীরিক অবস্থার অনবতি হলে ১০ দিন তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রাখা হয়েছিল। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল।

কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাত ভাই কাজী রওনাক হোসেন জানান, মরদেহ বুধবার বারডেমের হিমঘরে থাকবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচার বাসায় মরদেহ নেয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ আসর বনানী কবরাস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কুয়াশা চরিত্রটি নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেন প্রায় ৭৬ টির মতো কাহিনী রচনা করেছেন। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম ব্যবহার করে থাকেন। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া পেয়েছেন সিনেমা পত্রিকা ও জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.